স্বজন পোষণ চরিতকথা

স্বজনের পোষণ নিয়ে সবাই যখন হঠাত করে বেশ ব্যতিব্যস্ত, আমিই বা বাদ থাকি কেন। না একঘেয়ে ইউটোপিয়ান ঘ্যানঘ্যানানি করব না। অন্যদিকে আমি আপনি সবাই যে কমবেশি ইয়ে করি, সে কথাও অনেকেই বেশ গুছিয়ে বলছেন।

যেটুকু বলতে এলুম সেটা হল, আমার একটা ব্যাপার নিয়ে ভারী মজা লেগেছে। খেয়াল করলুম যে সেইসব ব্যাপারেই স্বজনপোষণ চলে বেশি, যে ফিল্ডে অ্যাকচুয়ালি খুব বেশি যোগ্যতার দরকার নেই।

সিনেমাতে অভিনয়ের কথাটাই ধরা যাক না। নেহাত বাবা সুপারস্টার বলেই মুভিতে চান্স পেয়ে গেলেন। হাই বাজেট কমার্শিয়াল মুভি। দুটো ঢিনচাক নেচে দিলেন। কেল্লা ফতে হয়ে গেলো।  কান্নার সিনগুলো এসে পড়লে গ্লিসারিন আর ১৫ বার টেক নেবার অপশন তো আছেই। আর সঙ্গে প্রযুক্তি। এমন একটা ক্লোজ শট মেরে দেবে, মুখের লোমকূপ আর চোখের তারায় রিফ্লেকশনের hd দেখেই বর্তে যাব আমরা। সেই সময় যে আপনি আপনার বাম হাত নিয়ে কি করবেন নাকি কেটে ফেলবেন সেটার কুল কিনারা পাচ্ছিলেন না, সেটা ধরাই পড়বে না।  আপনি চটতে পারেন – তবে আমার বিশ্বাস ক্যামেরার সামনে এক গাদা টেক নিয়ে অভিনয় আমার মত আলবাল লোকও করে দিতে পারে। অবশ্য আমার খ্যাদা নাক নিয়ে যদি আপনার সাংঘাতিক আপত্তি না থাকে, তবেই।

তবে এই অভিনয়ের গল্পটা কিন্তু নাটক বা যাত্রা তে আলাদা। সেখানে রীতিমতো যোগ্যতা লাগে। এত সোজা স্ক্রিপ্ট চলে না দর্শকের সামনে অভিনয়ে। এবং খুব স্বাভাবিক, স্বজন পোষণের জায়গাটাও সেখানে কমে আসে।

কিংবা ধরুন আপনার বাবা ‘ভারতীয় বাল ছিঁড়ি’ দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। আমার বিশ্বাস তেমন সত্যিই হলে আপনি আর আমার এই সব সস্তার পোস্ট পড়ে সময় অপচয় করতেন না। এতক্ষণে নিশ্চয় ভাঙ্গারাস্তাপুর গ্রামের একদল পার্টির ছেলের সামনে বুক ফুলিয়ে গলা উঁচিয়ে দিব্যি কীসব বক্তৃতা করছেন। কারণ বাবার আশীর্বাদ মাথায় থাকলে ওইটুকু শিরা ফোলাতে প্রতিভা লাগে না।  রাজনীতিতে বাবা ঠাকুমা এম এল এ ছিল বলে পাশের পাড়ার পাপুও যে এম এল এ হব বলে কান্না করতে পারে, সে তো আমি আপনি সবাই জানি!

আবার এমন অনেক ফিল্ডও আছে যেখানে যোগ্যতাটা লাগেই। কিন্তু তাও প্রয়োজনের থেকেও বেশি যোগ্য লোক অলরেডি এতজন আছেন, যে স্বজন পোষণ টাই এক্স ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু এবার খানিক অন্যদিকে চোখ ঘোরানো যাক। এই ডাক্তারির কথাটাই ধরুন না। ভাবুন আপনি নিজে ডাক্তার বলে আপনার ছেলেকেও ঢুকিয়ে দিলেন আপনার চেম্বারে। কিন্তু একটা রোগীর কিছু একটা হয়ে গেলে যখন রোগীর বাড়ির দশ জন লোক আপনার বাড়িতে হানা দেবে, কোথা দিয়ে উড়ে যাবে স্বজনপোষণ।

Leave a Reply

A Soliloquy
A bilingual blog in Bengali and English. © A Soliloquy