সিঙ্ঘাসন ছেড়ে রাজা যখন পথে

আজ শুনছিলাম কলকাতার মেয়র কোথায় একটা নাকি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে গাছ সরিয়েছেন। করোনার সময়েও প্রথম দিকে এরকম কিছু ছবি দেখতে পেতাম – আমাদের মুখ্যমন্ত্রী নিজে হাতে ইটের টুকরো দিয়ে লক্ষ্মণ রেখা এঁকে দিচ্ছেন। আচ্ছা, এইসব ছবি দেখলে আপনার কেমন মনে হয়?

উত্তরটা শুনব, এটা কিন্তু একেবারে সোজা প্রশ্ন নয় মশাই। আপনি যুক্তিগুলো গুছিয়ে নিন। সেই ফাঁকে একটা বেশ মজার তথ্য দিই। জানেন কি গুগল এর জিডিপির বহর প্রায় ৭০ টা দেশের থেকেও আগে! 1মানে গুগল যে পরিমাণ টাকা পয়সা ঘাঁটাঘাঁটি করে, কিংবা যত লোকের কর্ম সংস্থান করে সেটা অনেক দেশের থেকেই বেশি।

এবারে ভাবুন গুগলের হেড, সুন্দর পিচাই বেঙ্গালুরুর একটা ছোট্ট আইটি অফিসে এক সাধারণ সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাছে এসে বলছেন, ‘বাপু তুমি তো ভারি বোকা কর্মচারী। কোডে এই জায়গায় সেমিকোলন দিতে ভুলে গেছো! তাই তো তোমার বানানো অ্যাপে বাগ রয়ে গেছে।’ বলে তিনি টুক করে সেমিকোলন বসিয়ে দিয়ে বাকিদের বললেন, ‘তোমরাও তোমাদের সেমিকোলন গুলো দেখে নাও’।

আপনি এ ছবি কল্পনা করতে পারবেন না। কারণ ওরা কোম্পানি। ওদের কাছে কোম্পানির উন্নতি সত্যিই ম্যাটার করে। তাই ওরা একটা সিস্টেম বানিয়ে রাখে যেখানে সবার যার যার নিজের নিজের ডিউটি আছে। সবার ওপরে থেকে সুন্দর পিচাই এর ডিউটি হল এই সিস্টেম টাকে অক্ষত রাখা। তিনি তাই মুলত তার জাস্ট নিচের লোকেদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেন -সেগুলো গুরু গম্ভীর – সিরিয়াস ডিসিশনের ব্যাপার। সেটাই তাঁর ডিউটি।

এর বিপরীতেও কিছু কথা আছে। কোম্পানি যতই বড় হোক, তার হেডের সঙ্গে দেশের রাজার একটা মৌলিক পার্থক্য আছেই। রাজা শুধু সিঙ্ঘাসনে বসে দেশ শাসন করবেন, তাই নয়। মাঝে মাঝে পথে নেমে সাধারণ মানুষের সুখ দুঃখ নিজে দেখে নেবেন, ভাগ করে নেবেন। তবেই তিনি যথার্থ রাজা।

কিন্তু রাজা যদি শুধু পথেই ঘোরেন লোকের বাহবা কুড়োতে – সিঙ্ঘাসন যে খালিই রয়ে যায়। সেখানে কিন্তু সত্যিই গুরু দায়িত্ব আছে অনেক।

আমরা কোটি কোটি প্রজা ভোট দিয়ে একজন রাজা তৈরি করি এই ভেবে নয়, যে তিনি আমাদের দেখবেন; এই ভেবে যে তিনি নেতৃত্ব দেবেন আরও অনেক লোককে যাতে তারা সবাই আমাদের ঠিকঠাক দেখভাল করেন। আমার তো মনে হয় এরকম ক্রাইসিস সময়ে ওই একটা গাছ কাটতে অতটা সময় ব্যয় না করে সমস্ত ওয়ার্ডে সব জায়গায় কি সমস্যা, জল পাওয়া যাচ্ছে কিনা, গাছ কাটা হচ্ছে কিনা সেগুলো খোঁজ খবর নিতে পারতেন। আরও ভালো হত যদি আগে থেকেই একটা সিস্টেম বানিয়ে রাখতে পারতেন। এই সময়টায় তাঁর সময়ের অনেক দাম। আমরাই ভোট দিয়ে দামটা বাড়িয়ে রেখেছি।

যাই হোক, অনেকটা বকবক করে ফেললাম। এতক্ষণে আপনার উত্তর নিশ্চয় রেডি? আপনি কি বলেন?

Leave a Reply

A Soliloquy
A bilingual blog in Bengali and English. © A Soliloquy