তুমি বিদায় নিলে।
হাসিমুখে, শান্ত চোখে।
যাওয়ার কালে একবার ফিরে চাইলে।
মন কেমন ব্যাকুল হয়ে উঠল।
তবে কি এখনও কিছু বাকি?
নাহ্।
তুমি শুধু বললে— যদি কখনও খুব মনে পড়ে,
একটু খবর দিও,
দরজাটা খোলা রেখো।
তারপর আর ফিরে চাওনি।
মিলিয়ে গেলে দিগন্তে।
দরজাটা বন্ধ করতে পারিনি।
আজও খোলা।
ওদিক দিয়ে বসন্তের বাতাস আর আসে না।
মাঝে মাঝে ঝড় আসে।
শীতের হিম এসে জ্বর বাঁধায়।
কখনও কালবৈশাখী তছনছ করে দিয়ে যায় সবকিছু।
ঘরের কোণায় চুপটি করে বসে থাকি—
জবুথবু।
ঝড় থেমে গেলে আবার গুছিয়ে রাখি সব,
ধীরে ধীরে।
দরজাটা তবু বন্ধ করতে পারি না।
কত রাত ধড়ফড় করে উঠে ভেবেছি,
কপাটে শব্দ হলো— বুঝি কেউ এলো?
হাওয়ায় হঠাৎ কোনো নামহীন ডাক উঠলেই
আজকাল বুক কেঁপে ওঠে।
মনে হয়, এই বুঝি হৃদয় থেমে যাবে।
তোমার কণ্ঠস্বর
বলবে— কেমন আছো?
নাহ্, তোমার গলা ভেসে আসে না।
চলেই যখন গেলে,
এত দীর্ঘ শাস্তি কেন দিলে?
আর কতদিন বলো,
খোলা রাখব এই দরজা,
আগলে রাখব এই প্রেম?
