-হ্যালো?
-হ্যাঁ, বল।
-কি করছিস?
-তেমন কিছু না।
-আরে, কিছু না হোক ফেসবুক, ইউটিউব কিছু তো একটা করছিস? মানুষ এমনি এমনি জেগে থাকে নাকি?
-এই একটু ছবি আঁকছিলাম।
-আঁকছিলি! তুই? You mean drawing? Really?
-হ্যাঁ, ওই আর কি। পেইন্টিং বলতে পারিস।
-বাপ রে! হঠাত?
-জানি না। ইচ্ছে হল। আচ্ছা, জীবনের রঙ কি জানিস?
-অ। শুরু হল আতলামি। হবে কিছু একটা। লাল, নীল বা হলুদ। কবিতার অন্ত মিলে যেমনটা যাবে।
-উঁহু। আমার মনে হয়, জীবনের রঙ দুঃখ। ক্যানভাসের রঙ যেমন সাদা হয়। তার ওপরে তুলি দিয়ে লাল নীল সবুজ হলুদ নানা রঙ মিশিয়ে চিত্রপট তৈরি করে শিল্পী। তা না হলে ক্যানভাস সাদা। তেমনি জীবনের রঙ দুঃখ।
-ফোনটা রাখছি।
-জানিস, এই সন্ধ্যা রাত গুলো খুব ভালো লাগে মাঝে মাঝে। সব আলো নিভিয়ে চুপটি মেরে বসে থাকি অন্ধকারে। ফিরে ফিরে আসে শৈশব। স্মৃতি। ভালো লাগা। খারাপ লাগা। তবু সব কিছুই কেমন মিলে মিশে গিয়ে দুঃখ হয়ে যায়। জীবনের ডিফল্ট ফীলিংস টাই বোধ হয় দুঃখ। সে তুমি গাছতলায় থাকো। কিংবা থাকুক সাত রাজা ধন। আমরা সদাই দুঃখী। আমরা সবাই দুঃখী।
-বলছি ফোনটা রাখছি। তুই পেইন্টিং কর, কবিতা লেখ। যা খুশি। আমার কাজ আছে।
-পেইন্টিংই করছি রে। সামনে রঙ প্লেটে সাজিয়ে রেখেছি আনন্দ, সুখ, প্রেম, স্নেহ আর বিরিয়ানি। মোটা তুলি নিয়ে একটা একটা প্রলেপ দিয়ে দিয়ে ঢেকে দিচ্ছি দুঃখের ক্যানভাস। আঁকবি আমার সঙ্গে? ৭০ বছর বাই ২৪ ঘণ্টার এই ক্যানভাসে একটা কোনাও ফাঁকা থাকবে না তবে।
-ফোনটা রাখছি। বাই।