তোমাকে রোজ মনে পড়ে

১)

তোমাকে রোজ মনে পড়ে, জানো, বাতি।

প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে তুমি আসো।

নানা দিনে নানা বসন, ঠিক যেমনটা আমি সাজাই মনে মনে!

আচ্ছা, সকালেই কেন আসো?

সারা রাত বুঝি থাকো মনে? অবচেতনে?

কথা বলতে বলতে হঠাৎ করে চলে যাও।

রাতের কথা ফুরোবার আগেই।

আমার শেষ অক্ষরগুলো তোমার কাছে গিয়ে আবার ফিরে আসে।

তাতে লেগে থাকে তোমার ঘুমন্ত চোখের ছোঁয়া,

তোমার দিন শেষের ক্লান্ত শ্বাস,

হয়তো খানিকটা তোমার ঘ্রাণ…

তারা খানিকক্ষণ আমার ঘরে ঘোরাঘুরি করে।

আমায় ঘুম পাড়ায়।

তাই কি?

নাকি অবচেতনে আসন সাজায়?

পরের সকালের জন্য, তুমি আসবে বলে,

ধীর পায়ে, বসবে বলে দু দণ্ড।

২)

আজও তুমি এসেছিলে।

কিন্তু এ কি তুমি?

এ কার ঠোঁট?

এমন চিবুক তো তোমার নয়!

এ কার চোখ আমি ধার করে এনে বসিয়েছি তোমার মুখে?

এ চুলে তোমার ঘ্রাণ কই?

এত দিন মিথ্যা নিয়েই ভুলিয়েছি মন।

নিজের মতো করে সে সাজিয়েছে তোমায়।

শুধুই কি সাজিয়েছে?

তোমাকে একদম পাল্টেই দিয়েছে, জানো!

তুমি দেখলে জানি না কী বলতে!

মুখ টিপে হাসতে?

আমি জানি।

তুমি রেগে যেতে।

আমি জানি তোমার ভালো লাগে না আর কেউ হতে।

তুমি যে তুমি।

তাই তো চেয়েছিলেম একবার দেখতে তোমায়।

তোমার এক ঝলক টাঙিয়ে রাখবো দরজায়।

সকালে কেউ যদি আসে, সিকিউরিটি গার্ড ভালো করে মিলিয়ে নেবে তার মুখ।

তবেই তার প্রবেশাধিকার।

তোমার যে আসন, সেখানে তোমারই একমাত্র এন্ট্রি, বাতি।

আর কারোর নেই অধিকার।

৩)

তবু তুমি তো দেখা দিলে না।

কী ভয় পাও?

আমি বুঝি স্কেল দিয়ে মাপবো তোমার ঠোঁট?

যে ঠোঁটে কোনো দিনই পড়বে না আমার চুম্বন!

আমি বুঝি চাঁদা দিয়ে মাপবো তোমার নাক?

যে নাকের গরম শ্বাস কোনোদিনই পড়বে না আমার বুকে!

আমি বুঝি মেপে দেখবো তোমার চুলের ঘনত্ব?

যেখানে আমার নেই অধিকার হারাবার।

তবে খুব মাপবো তোমার চোখ।

সাতশো লোক আর হাজার আয়না নিয়ে সে এক দক্ষ যজ্ঞ।

তারা তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখবে তোমার চোখের প্রতিটা কোষ,

কোথাও যদি একটুকু থাকে আমার ছায়া।

কিংবা আমার জন্য এতটুকু অনুভব!

তাই ভয় পাও?

সেটুকু ভারও নাহয় তোমায় নাই দিলাম।

এবার কি তবে আসবে, বাতি,

কাল সকালে,

নিজে,

নিজের মুখ নিয়ে?

Leave a Reply

Scroll to Top